দক্ষিণ কোরিয়ার সউল টাওয়ার ভ্রমণের তথ্য। - Multi language center- Bogura.

Contact No: 01948652556

কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার পরবর্তি কোর্স শুরুর তারিখঃ- ১০/০৪/২০২৫ ইনশাআল্লাহ।

2025/03/17

দক্ষিণ কোরিয়ার সউল টাওয়ার ভ্রমণের তথ্য।

  সউল টাওয়ার- দক্ষিণ কোরিয়া


অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকবে, যা আপনাদের অবশ্যই অনেক কাজে লাগবে

সউল টাওয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার একটি নামকরা ভ্রমণ স্পট। এখানে যাওয়াটা একদম সোজা। আমি আপনাদেরকে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সাহায্য় করব ইনশাআল্লাহ্। এবং এর সম্পর্কে কিছু ইতিহাস জানানোর চেষ্টা করব। দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার পরে, সবাই Kakao map টাকে মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখবেন। তারপরে Kakao Bus এই Apps টাকেও ডাউনলোড করে নিবেন। তারপরে অবশ্যই Subway Korea Bus এই Apps টাকেও ডাউনলোড করে নিবেন। তাহলে আপনার পুরো কোরিয়াতে ঘুরা-ফেরায় আর কোন সমস্যা হবে না।



উপরের ছবিতে সউল টাওয়ারের উপরের অংশে গোলাকৃতির যেই জায়গা টুকু দেখতে পারতেছেন। এটাই সউল টাওয়ারের মূল আকর্ষণ। এই জায়গাটাকে যত ছোট মনে হচ্ছে, ততটা ছোট নয়। এখানে উঠতে হলে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পরে, লিফ্টে উঠার সিরিয়াল পাওয়া যায়। এই সউল টাওয়ারের এই অংশটাকে ওয়াচ টাওয়ার হিসাবে গণ্য করা হয়। এখান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সউলের পুরো এলাকাটা দেখা যায়।

এই টাওয়ারে উঠার তিনটি উপায় আছে।

১) নিচে থেকে পায়ে হেঁটে টাওয়ারের নিচে/গোড়া পর্যন্ত আসতে হবে। তবে উপরে উঠার সময় ক্যাবল কার দিয়ে উঠে, নামার সময় পায়ে হেঁটে নামাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ উপরে উঠতে একটু কষ্ট হবে, তাই সুন্দর্যটাকে ভালো ভাবে উপভোগ করতে পারবেন না। আর নামার সময় তুলনামূলক ভাবে অনেকটা সহজ হওয়ায়, চারে দিকের সুন্দর্যটাকে ভালো ভাবে উপভোগ করতে পারবেন। মনে রাখবেন, নামার সময় হাঁটু সামনের দিকে সট্কে গিয়ে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নামার সময় অবশ্যই হাতে একটা লাঠি রাখবেন।

এখানে আসবেন যেভাবেঃ

প্রথমতঃ সিউল ট্রেন ষ্টেশনে নামবেন। তারপর ৫ নাম্বার গেট দিয় বের হয়ে, টেক্সি নিবেন। বাসে যাওয়া যায় তবে দুইবার হাঁটতে হবে, আর দুইবার বাস পাল্টাতে হবে। দুরুত্ব বেশি না হলেও মোটামুটি ঝামেলার বিষয়, তাই টেক্সিতে যাওয়াই ভাল
দ্বিতীয়তঃ আনসান বা ওই এলাকা থেকে যারা আসবেন, অথবা ট্রেনের 8 নাম্বার লাইনে আসলে। মিয়ংদোং ট্রেন ষ্টেশনে নামবেন। এখান থেকে ৬০০১ এবং ৬০১৫ নাম্বার বাসে চড়ে সেখানে যাইতে পারবেন
তৃতীয়তঃ সিউলের যে কোন বাস স্টপ থেকে সিটি ট্যুর বাসে উঠলেই হবে। উঠার পরে আপনার হাতে একটা ভ্রমণ স্পটের চার্ট দিবে। ওইটা দেখে, কোথায় কোথায় ঘুড়বেন সেটা ঠিক করতে হবে


২) ক্যাবল কারের মাধ্যমে উপরে উঠা এবং নিচে নামা। ক্যাবল কারে উঠতে হলে, খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রওণা দিতে হব। এর পরে ক্যাবল কারের ওখানে লাইন ধরতে হবে। ভাগ্য ভাল থাকলে তারাতারি সিরিয়াল পাবেন। তবে কর্ম দিবস গুলোতে ছুটির দিন থেকে চিত্রটা একদম ভিন্ন হয়। ফাঁকা ফাঁকা একটা পরিবেশ পাওয়া যায়।   



৩) সিটি ট্যুর বাসে চড়ে নামসান পাহাড়ের প্রায় চুঁড়া পর্যন্ত উঠতে পারবেন। এখানে সুবিধাটাই বেশি, খরচও অনেক কম। সউল সিটি ট্যুর বাসে ঘোড়া-ফেরা, খরচ এবং নিয়ম-কানুন অন্য কোন পোস্টে দিয়ে দিব। এই ভাবে নামসান পাহাড়ের  উপরে উঠে, আবার টিকিট কাটতে হবে। এই বার টিকিট কাটবেন টাওয়ারের পর্যবেক্ষন ডেস্ক তথা লিফ্ট দিয়ে উপরে যাওয়ার জন্য

       

নামসান পাহাড় পর্যন্ত উঠতে খরচঃ

ক) পায়ে হেঁটে > ফ্রী

খ) সিটি ট্যুর বাসে > প্রাপ্ত বয়স্ক ২৪০০০ উয়ন, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২০০০ (+ -) টাকা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৫০০০ উয়ন, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১২৫০ (+ -) টাকা। সারাদিন সউল সিটির বিভিন্ন ট্যুর পয়েন্ট গুলোতে ঘুড়ে ঘুড়ে দেখাবে। একটি বাস আপনাকে একটি পয়েন্টে নেমে দিয়ে অন্য পয়েন্টে চলে যাবে। এই বাসের সাথে আপনার আর দেখা হবে না। এই রকম অনেক বাস ১৫ মিনিট পর পর আপনার ওই পয়েন্টে আসবে। আপনার যেহেতু টিকিট কাটা আছে। আপনি যখন খুশি যে কোন ট্যুর বাসে উঠতে পারবেন

গ) ক্যাবল কারে > প্রাপ্ত বয়স্ক (উঠা-নামা)  ১৫০০০ উয়ন, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায়  ১২৫০ (+ -) টাকা। প্রাপ্ত বয়স্ক (শুধু উঠা)  ১০০০ উয়ন, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায়   ১০০০ (+ -) টাকা অপ্রাপ্ত বয়স্ক (উঠা-নামা)  ১১৫০০ উয়ন, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায়  ৯৬০ (+ -) টাকা। প্রাপ্ত বয়স্ক (শুধু নামা)  ৯০০০ উয়ন, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায়  ৭৫০ (+ -) টাকা কাউন্টারের সামনে ডলারের কারণে, অপডেট মূল্য তালিকা দেওয়া থাকবে

টাওয়ারের উপর পর্যন্ত উঠতে খরচঃ

ক) লিফ্ট >  প্রাপ্ত বয়স্ক ২৬০০০ উয়ন, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২১৭০ (+ -) টাকা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ২০০০০ উয়ন, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায়  ১৬৭০ (+ -) টাকা। কাউন্টারের সামনে ডলারের কারণে, অপডেট মূল্য তালিকা দেওয়া থাকবে। নামার সময় লিফ্ট অথবা সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন। টাওয়ারের প্রত্যেক তলায় আলাদা আলাদা ডিপার্টমেন্টের দোকান ও হোটেল আছে



কৌতূহলি কী পয়েন্টঃ

টাওয়ারের উপরে উঠার আগেই টিকিট কাউন্টারের পাশ দিয়ে উপরে উঠে গেলেই এই কী পয়েন্ট পাওয়া যাবে। এখানকার তালা-চাবি গুলোর ইতিহাস খুবই স্পর্ষ কাতর। কোরিয়ানদের মুখে শোনা, এখানে ছেলে-মেয়েরা নতুন সম্পর্কে জরালে। একটি তালাকে স্বাক্ষী রেখে সম্পর্ক শুরু করে। তালার উপরে দুই জনের নাম অথবা ছবি লাগিয়ে চাবি দুই জনের কাছে দুইটা নিয়ে যায়। কোরিয়াতে বিয়ে করাটা খুবই শর্ত সাপেক্ষ এবং ব্যায় বহুল। তাই বেশির ভাগ লোকেরাই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বা লিভ-টুগেদারের মাধ্যমে জিবন-জাপন করে। যাদের সম্পর্ক মৃত্য পর্যন্ত চলছে, তারা মাঝে মধ্যেই এখানে এসে তালাটাকে দেখে ছবি তুলে নিয়ে যায়। আবার কারো বিচ্ছেদ হলে, কেউ এক জন এসে তালাটা খুলে নিয়ে যায়
আবার এই রকমও হয় যে, বিচ্ছেদ হবার অনেক দিন পরে এসে দেখে তালাটা ওখানেই আছে। তখন মনে করে, তাদের মধ্যে এখনোও ভালো বাসা আছে। তখন সে অন্য জনের সাথে যোগাযোগ করে, এবং তালা খুলে নাওনি কেন ? এই সমস্ত আবেগী কথা-বার্তা বলে মান-অভিমান ভুলে এক হয়ে যায়



টাওয়ারের উপরের ভিউ পয়েন্টঃ

এখান থেকে পুরো কোরিয়ার রাজধানী সিউলকে দেখতে পারবেন। সিউলের চার পাশে উচু উচু পাহাড়ে ঘেরা। মাঝখানের এই শহড়টাকে এখান থেকে দেখতে বড় অগোছালো লাগে। কিন্তু নিচে গিয়ে যখন দেখবেন। তখন মনে হবে এর থেকে সাজানো-গোছানো শহড় আর কোথাও থাকতে পারে ! 

টাওয়ারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

এই ( N 서울타워 / N Seoul Tower ) টাকে অফিসিয়ালী YTN Seoul Tower  এবং সাধারন ভাবে Namsan Tower বা Seoul Tower বলে ডাকে। এই টাওয়াটি মূলত ২৩৬.৭ মিটার বা ৭৭৭ ফিট উচ্চ, যা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৪৭৯.৭ মিটির বা ১৫৭৪ ফিট। যেইটা কোরিয়ার রাজধানী সউলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান।
সউল টাওয়ারটি ১৯৬৯ সালে তৈরি করা হয়, এতে মোটামুটি ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়। এটি তৈরি করা শেষ হয় ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। স‌উল টাওয়ারটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৮০ সালে। স‌উল টাওয়ারটির নাম পরিবর্তন করে ২০০৫ সালে এর নামের প্রথমে N অর্থাৎ New লাগানো হয়।
যখন এই স‌উল টাওয়ারটির অরিজিনাল মালিক CJ কর্পোরেশনের আওতায় ছিল। তখন এর নাম CJ স‌উল টাওয়ার হিসেবে ছিল। YTN এটি 1999 সালে CJ কর্পোরেশনের থেকে অধিগ্রহণ করে, এর নাম পরিবর্তন করে YTN সিউল টাওয়ার রাখে। যার কারণে একে মূলত নামসান টাওয়ার বা সিউল টাওয়ার নামে লোকে ডেকে থাকে। কারণ এর মালিকানা পরিবর্তনশীল। এটি কোরিয়ার প্রথম সাধারণ রেডিও তরঙ্গ, যা KBS,MBC,SBS TV,FM,PBC,TBS,CBS,BBS FM এর ট্রান্সমিশন অ্যান্টেনা ধারণ করে।

খাওয়া-দাওয়াঃ

ক্যাবল কারের টিকিট কাউন্টারের দিকে কিছু খাবারের হোটেল আছে। সেখান থেকে খাবার সেরে নিয়ে উপরে উঠবেন। আবার নিচে নেমে খাবার খেয়ে রওণা দিবেন। এখানে কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার, পানীয় সব পাওয়া যায়। টাওয়ারের ভিতরে বা একদম উপরের যত খাবারের দোকান, ক্যাফে, পোষাক এই সব দোকানে পণ্যের দাম অনেক বেশি। প্রয়োজনে কিছু খাবার, পানীয়, আইসক্রিম, কফি সাথে নিয়ে উপরে উঠতে পারেন।




No comments:

Post a Comment

কমেন্ট করার জন্য় ধন্যবাদ। দেখা মাত্রই উত্তর দিব ইনশাআল্লাহ্।